জাজিগ্রাম, বীরভূম: বীরভূমের মুরারই-২ ব্লকের জাজিগ্রাম পঞ্চায়েতে শুক্রবার ঘটে গেল বড়সড় রাজনৈতিক পালাবদল। প্রায় দুই বছর আগে সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপির ‘রামধনু’ জোটের হাতে থাকা এই পঞ্চায়েত এখন কার্যত তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে।
রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের উপস্থিতিতে শুক্রবার বিকেলে জাজিগ্রামের প্রধান তুষার রাজবংশী, কংগ্রেসের আরও দুই সদস্য ও সিপিএমের এক সদস্য তৃণমূলে যোগ দেন। এর ফলে ২৪ সদস্যের পঞ্চায়েতে তৃণমূলের শক্তি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে, আর বিরোধীদের সংখ্যা নেমে এসেছে নয়ে।
🔹 ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের ফল
রামপুরহাট মহকুমার অধিকাংশ এলাকায় ২০২৩ সালে তৃণমূল বোর্ড গঠন করলেও, জাজিগ্রাম ও নলহাটি-২ ব্লকের শীতলগ্রাম পঞ্চায়েতে দেখা গিয়েছিল ভিন্ন চিত্র। সেখানে ‘রামধনু’ জোট (সিপিএম-কংগ্রেস-বিজেপি) একজোট হয়ে গঠন করেছিল বোর্ড।
২৪ আসনের জাজিগ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল পেয়েছিল ৯টি, বিজেপি ৮টি, কংগ্রেস ৩টি, সিপিএম ৩টি এবং নির্দল ১টি আসন। ফলপ্রকাশের পর কংগ্রেসের তুষার রাজবংশী নির্বাচিত হন প্রধান এবং বিজেপির বিনাপাণি রাজমল্ল হন উপপ্রধান।
🔹 তৃণমূলে যোগের পর নতুন সমীকরণ
তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর প্রধান তুষার রাজবংশী বলেন,
> “তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের কাজে অনুপ্রাণিত হয়েই দলে যোগ দিয়েছি। এখন মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।”
অন্যদিকে, মুরারই-২ ব্লক তৃণমূলের সহ-সভাপতি সৌমেন মুখোপাধ্যায় জানান,
> “উন্নয়নের কাণ্ডারী তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যজুড়ে যে উন্নয়নের হাওয়া বইছে, তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে বিরোধী সদস্যরা একে একে আমাদের সঙ্গে আসছেন।”
🔹 রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রামধনু জোটের এই ভাঙন শুধু জাজিগ্রাম নয়, আশেপাশের অন্যান্য পঞ্চায়েতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তৃণমূলের হাতে ক্ষমতা আসায় জাজিগ্রামে প্রশাসনিক কাজ আরও গতি পাবে বলে আশাবাদী শাসকদল।
