ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে মর্মান্তিক মৃ্ত্যু মুর্শিদাবাদ জেলার পরিযায়ী শ্রমিকের - Ei Bangla
Ei Bangla Bangla News (বাংলা খবর) ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে মর্মান্তিক মৃ্ত্যু মুর্শিদাবাদ জেলার পরিযায়ী শ্রমিকের

ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে মর্মান্তিক মৃ্ত্যু মুর্শিদাবাদ জেলার পরিযায়ী শ্রমিকের


রাজেন্দ্র নাথ দত্ত:মুর্শিদাবাদ : আবারও ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজে গিয়ে মৃত্যু হল এক পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃতের নাম বাবন সেখ (২৪)। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দী মহকুমার খড়গ্রাম থানার বালিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সেখপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সে এক বছর ধরে ঝাড়খন্ড রাজ্যে ভাঙরীর ফেরিওয়ালার কাজ করতো মাঝে মধ্যে বাড়ি আসতো। গত এক মাস আগে বাড়ি আসে। গ্রামের প্রতিবেশী তথা সহকর্মীদের থেকে পরিবার জানতে পেরেছেন, গত ২৮ শে ডিসেম্বর দুপুর ১২ টা নাগাদ ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পশ্চিম সিংভূম জেলার চাইবাসা মুফসি থানার পানচড়া গ্রামের জঙ্গলে খতবিক্ষত দেহ উদ্ধার চাইবাসা মুফসি থানার পুলিশ।গ্রামে খবর পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। শেষবারের মত প্রিয় ছেলেটার মুখটা দেখার অপেক্ষায় পরিবার। বাবা আব্দুল বারি তিনি অসুস্থ। জানা যাচ্ছে,পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন বাবন সেখ।বাবনের মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিচে পারছে না পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে অন্ধকারে ডুবেছে গোটা পরিবার। প্রশাসন দেহটি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করছে। আজ শুক্রবার রাত্রি নাগাদ বাবনের কফিন বন্দি মৃতদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। কীভাবে মৃত্যু তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে ঝাড়খন্ড রাজ্যের পুলিশ।বাবনের কাকা আলিম সেখ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেন ।এক প্রতিবেশী বলছেন, অনেক দিন ধরেই ওঁ বাইরে কাজ করতেন। বাড়িতে তো আর কেউ সেভাবে রোজগার করার নেই। পরিবারের আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে। কীভাবে সংসার চলবে, সেটাই ব্যাপার। প্রশাসন যদি পাশে দাঁড়ায়, তাহলে ওঁদের খুব উপকার হয়।যদিও এলাকার বাসিন্দারা দেহ ফিরিয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। পিছিয়ে পড়া মুর্শিদাবাদ জেলার বহু যুবকই রুজির তাগিদে ভিন রাজ্য সহ দেশের বাইরে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। সেখান থেকে কেউ ফিরে আসেন আবার কেউ ফিরতে পারেন না। ঘরের ছেলেকে হারিয়ে গ্রামের মানুষের দাবি, সরকার যেন নিজের রাজ্যেই শিল্প স্থাপন করেন। যাতে আর কাউকে বাইরে গিয়ে এইভাবে প্রাণ দিতে না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

পিংলায় তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষ, আহত ৭ জনপিংলায় তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষ, আহত ৭ জন

পিংলায় তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষ। আহত উভয় পক্ষের ৭ জন। রবিবার দুপুরে হঠাত্‍ করেই পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা ব্লকের আকনা এলাকায় তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আহত হয়েছে উভয় পক্ষের ৭ জন। সবাইকেই নিয়ে

কাঁচরাপাড়া কালিনগর রোড আমরা সবাই ক্লাবের এবারের আকর্ষণ কেদারনাথ মন্দিরকাঁচরাপাড়া কালিনগর রোড আমরা সবাই ক্লাবের এবারের আকর্ষণ কেদারনাথ মন্দির

এইবাংলা ডেক্সঃ কাঁচরাপাড়ার একটি উল্লেখযোগ্য ক্লাব হলো কালিনগর রোড আমরা সবাই ক্লাব। প্রত্যেক বছরই কালিনগর রোড আমরা সবাই ক্লাবের পূজোতে বিশেষ কিছু চমক থাকে। আর এবার তাদের ভাবনা কেদারনাথ মন্দির।

অসন্তুষ্ট পশ্চিমবঙ্গের মতুয়া সম্প্রদায়, কপালে চিন্তার ভাঁজ বিজেপিরঅসন্তুষ্ট পশ্চিমবঙ্গের মতুয়া সম্প্রদায়, কপালে চিন্তার ভাঁজ বিজেপির

অসন্তুষ্ট পশ্চিমবঙ্গের মতুয়া সম্প্রদায়। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) কার্যকর করে মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি পাকা না করলে মতুয়া ভোটব্যাংক যে থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেবে, তা ভালই বুঝতে পারছে বিজেপি। ফলে

হাতেখড়ি সেরেই দিল্লি তলব রাজ্যপালকে, ধনখড় আনন্দ বৈঠকে নিয়ে জল্পনাহাতেখড়ি সেরেই দিল্লি তলব রাজ্যপালকে, ধনখড় আনন্দ বৈঠকে নিয়ে জল্পনা

‘হাতেখড়ি’ পর্ব শুরু হয়েছিল বিকেল ৫টায়। সেই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কিছু পরেই, সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ জানা গেল বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে বৈঠক

পঞ্চায়েত ভোটে নেতার পরিবারের সদস্যরা কি টিকিট পাবেন? জোর চর্চা তৃণমূলেপঞ্চায়েত ভোটে নেতার পরিবারের সদস্যরা কি টিকিট পাবেন? জোর চর্চা তৃণমূলে

আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে নেতার পরিবারের সদস্যরা কি টিকিট পাবেন? তা নিয়ে জোর চর্চা তৃণমূলে। নেতার ব্যাগ, জলের বোতল ইত্যাদি বয়ে যে পঞ্চায়েত ভোটের টিকিট পাওয়া যাবে না, তা আগেই স্পষ্ট

‘কুম্ভকর্ণ সরকার, এবার জাগো’! আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কান্না মহিলা চাকরিপ্রার্থীদের‘কুম্ভকর্ণ সরকার, এবার জাগো’! আন্তর্জাতিক নারী দিবসে কান্না মহিলা চাকরিপ্রার্থীদের

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সমস্ত যোগ্য প্রার্থীদের অবিলম্বে নিয়োগের দাবিতে পথে নামলেন ২০১৬-র SLST নবম থেকে দ্বাদশের চাকরিপ্রার্থীরা। কালো পোশাক পরে, কাঁসর-ঘণ্টা-শাঁখ বাজিয়ে, বঙ্গীয় ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা মঞ্চের ব্যানারে শিয়ালদা থেকে